সরকারি আদমজীনগর মার্চেন্ট ওয়ার্কারস্ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

Govt. Adamjeenagar Merchant Workers' College, Narayanganj

 

জ্ঞান-ই শক্তি। মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে জ্ঞান লাভ করা। জ্ঞান মানুষকে নিজের অস্তিত্বের সন্ধান দেয়, চেতনায় আনে দৃঢ়তা। জ্ঞান লাভের মাধ্যমে জীবন হয়ে উঠে সৎ, কর্মময় ও কল্যাণময়। শিক্ষাঙ্গন হচ্ছে জ্ঞান চর্চার পূণ্য তীর্থ। সকরকারি আদমজীনগর এম ডবিøউ কলেজ এমনই একটি জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র। 
রাজধানী ঢাকা মহানগরীর যেখানে শেষ, বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জের সেখানে শুরু। সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলটি এই শেষ এবং শুরুর মিলন ক্ষেত্র। এক সময়ের পৃথিবী বিখ্যাত আদমজী পাটকল যার অবস্থান ছিল সিদ্ধিরগঞ্জে। পাটজাত পণ্যের সোঁদা গন্ধ, পাটকল শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর পেশী নিংড়ানো শ্রম এবং আমাদের অর্থনীতিতে এর অবদান সিদ্ধিরগঞ্জকে দিয়েছে খ্যাতি, দিয়েছে পরিচিতি। সময়ের বিবর্তনে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি আদমজীনগর এম ডবিøউ কলেজ। এ শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠায় যাঁদের  স্বপ্নের সোনালী ফসল তাঁরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জের সূধীজন। এখন আদমজী পাটকল আর নেই। তার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আদমজী ইপিজেড। বর্তমানে কলেজটি সেই সোনালী অতীতেরই সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। কলেজ প্রতিষ্ঠায় সূধীজনদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং আদমজী পাটকলের হারিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী শ্রমিকদের স্মৃতি চিহ্ন মিশে আছে কলেজটির নামকরণের সাথে। আদমজী জুট মিলের পাট ব্যবসায়ী (Merchant) এর M ও শ্রমিক (Worker) এর W অক্ষরদ্বয় ধারণ করে ১৯৮০ সালে আদমজীনগরে প্রতিষ্ঠিত হয় আদমজীনগর এম.ডব্লিউ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।
মুষ্টিমেয় শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় কলেজটির শুভযাত্রা। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের ১৮ই আগষ্ট কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। সময়ের পালাবদলে কলেজে ঘটে বিরাট পরিবর্তন। বর্তমানে বহুতল ভবন, অজস্র ছাত্র-ছাত্রীর কলকাকলী, অর্ধশতাধিকেরও বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে মুখরিত প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠালগ্নের সেই মহৎ মানুষদের ঐকান্তিক চাওয়া যেন আজ নোঙর করেছে সাফল্যের সোনালী বন্দরে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজটিতে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন সংখ্যা ১৯৯৫। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৩০, মানবিক বিভাগে ৬৩০ ও ব্যবসায় শিক্ষায় ১০৩৫ টি আসন রয়েছে।